ঢাকা রবিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২

কমলগঞ্জে আধুনিকতার ছোয়ায় বিলুপ্তির পথে আঁখ চাষ


সাদিকুর রহমান সামু, কমলগঞ্জ photo সাদিকুর রহমান সামু, কমলগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৪-১-২০২২ রাত ৮:৪৫

কৃষি অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক সময়ে প্রচুর আঁখ চাষ করা হলেও কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোয়ায় আজ বিলুপ্তির পথে। দশ পনের বছর আগেও গ্রামে গ্রামে দেখা মিলতো আঁখ খেতের। শীতের সকালে গ্রামে গ্রামে ঘুরে আঁখের রস বিক্রি করতেন রস ফেরিওয়ালারা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও আঁখের রস খাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠতেন। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। কৃষি অধ্যুষিত এ উপজেলায় এক সময় নদীর চর ও সমতল ভূমিতে প্রচুর আঁখ চাষ করতেন কৃষকেরা। গ্রামে গ্রামে গরু-মহিষ দিয়ে চরকির মাধ্যমে আঁখের রস সংগ্রহ করা হতো। আধুনিক চাষাবাদের বিস্তারে কৃষকেরা সহজলব্য ফসল উৎপাদনে মনোনিবেশ করায় আঁখ চাষের পরিমাণ দিন দিন কমে গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে উপজেলার শমসেরনগরের নিকটবর্তী দক্ষিণ বিলেরপাড় গ্রামে আধুনিক মেশিন দিয়ে আঁখের রস সংগ্রহের দৃশ্য দেখা যায়। কথা হয় আঁখ চাষি হারুন মিয়ার সঙ্গে। গ্রামীণ জনপদের একসময়ের জনপ্রিয় কৃষি আঁখ চাষ এখনও ধরে রেখেছেন তিনি। আলাপকালে তিনি বলেন, গত ২-৩ বছর ধরে আঁখ চাষ করে আসছি। আগে অনেকেই আঁেখর চাষ করলেও বর্তমানে দু-একজন কৃষক ছাড়া কেউ এ চাষ করে না। এবছর ১০৫ শতাংশ জমিতে আঁখ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এই খরচের টাকার পরেও এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী। হকতিয়ারখোলা গ্রামের আরেক আঁখচাষী নন্দ কিশোর সিংহ জানান, এ বছর তিনি দুই হেক্টর জমিতে আঁখ চাষ করেছেন। তবে আগের মতো গুড় বিক্রি হচ্ছে না। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের হকতিয়ারখোলা, আধকানী, রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা ও শমসেরনগর ইউনিয়নের সতিঝিরগাঁও গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক এ বছর আঁখ চাষ করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনি খাঁন বলেন, ‘এ বছর কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে আঁখ চাষ হয়েছে। শুনেছি এ উপজেলায় একসময় প্রচুর পরিমানে আঁখ চাষ করা হতো। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় বর্তমানে তেমন আঁখ চাষি নেই। ’

এমএসএম / এমএসএম