ঢাকা শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২

তরুণ উদ্যোক্তা ও সংগঠকঃ নিয়াজ মোর্শেদ এলিট


সকালের সময় ডেস্ক photo সকালের সময় ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২-৯-২০২২ দুপুর ৩:৩৪

তরুণ উদ্যোক্তা ও সংগঠক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, জুনিয়র চেম্বার অব ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশ এর সভাপতি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচিত তরুণ। রাজনীতির অপর পিঠে ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত সারা দেশে। তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়েজ রেজা।


 *    করোনাকালে কেমন ছিল তরুণ উদ্যোক্তারা?
করোনার সময়ে সবার ব্যবসাতেই সমস্যা হয়েছে। যারা সেবাখাতে বিনিয়োগ করেছেন, যারা অনলাইন ও প্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবসা করেছেন, তারা একটু সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন। সে কারণে এই সময়ে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকেই যুক্ত হয়েছেন অনলাইল ও সেবামূলক ব্যবসায়। এতে ব্যবসায় বৈচিত্র্য এসেছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সংগঠন জুনিয়র চেম্বার অব ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশ এই সময়ে চেষ্টা করেছে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার জন্য। 

*    তরুণদের মধ্যে একটি অংশ নতুন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসায় আসে। অন্য একটি অংশ পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন। আপনার অভিজ্ঞতায় কি মনে হয়, কারা ভালো করেন? 
জেসিআই বাংলাদেশ ১৮ বছর বয়স থেকে ৪০ বছর বয়সী উদ্যোক্তাদের সংগঠন। তরুণ উদ্যোক্তাদের সাথে কাজ করে দেখেছি, যারা নতুন উদ্যোগ নিয়ে আসেন, যারা নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসেন, ব্যবসার প্রতি তারা বেশি নিবেদিত থাকেন। উদ্যোম ও পরিশ্রমের ফলে তাদের অনেকেই সফলতা অর্জন করেন। নতুন নতুন উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার কারণে তারা ব্যবসায় ভালো করেন। 

*   এই সময়ে তরুণরা ব্যবসায় কেমন করছে? 
বর্তমান সময়ে সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। তরুণদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। জীবনমানের উন্নতি তেমন হচ্ছে না। চাকুরীর ক্ষেত্রে বেতন তেমন বাড়েনি, জীবনযাত্রার ব্যয় যত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানি খরচ বেড়েছে। ফলে অনেক জায়গায় পণ্যমূল্য বেড়েছে, বিক্রি কমে গেছে। যার কারণে ব্যবসায় সুবিধা তেমন করতে পারছে না এই সময়ের তরুণরা। তরুণদের মধ্যে যারা নতুন ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিষয়ে আমার পরামর্শ হচ্ছে- এই সময়ে নতুন উদ্যোগ শুরু করার আগে আরেকটু চিন্তাভাবনা করবেন। তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সব ধরনের ব্যবসায়ীরা সমস্যায় আছেন। পৃথিবীর সব দেশের ব্যবসায়ীরাই আছেন এই সমস্যায়। সব দেশের মানুষ সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পৃথিবীর অনেক দেশে হয়তো দুর্ভিক্ষ লেগে যেতে পারে এই যুদ্ধের কারণে। তাই নতুন উদ্যোগ শুরু করার আগে আরেকটু ভাবতে হবে। 


*  ব্যবসায় তরুণদের সহযোগিতা করার জন্য নতুন কি উদ্যোগ নিচ্ছেন?
তরুণরা ব্যবসা শুরু করতে এসে পুঁজির সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন। তাদের অভিজ্ঞতা কম। ব্যাংক ঋণ এর নানা বিষয়ে তাদের ধারণা কম থাকে। তাদের পুঁজি বা স্থায়ী সম্পদ কম থাকে। ফলে অনেক ব্যাংক তরুণদের ঋণ দিতে চায় না। জেসিআই বাংলাদেশ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে- তরুণদের ঋণ দেওয়ার সময় শর্ত শিথিল করার জন্য। সরকারের সাথে সংগঠনের পক্ষ থেকে কথা বলা হচ্ছে- জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স দেখে এবং নতুন উদ্যোগের সম্ভাব্যতা যাচাই করে ব্যাংক যেন বিনা জামানতে ঋণ দেয়, সে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। এর বাইরে তরুণদের জন্য সরকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে সহজ শর্তে বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কাজ করছি। তরুণদের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। 

*   ব্যবসার বাইরে সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে আপনি জড়িত। কোন প্রেরণা থেকে এটি করেন? 
 চট্টগ্রামে আমার নিজের নামে নিয়াজ মোর্শেল এলিট ব্লাড ডোনার ক্লাব গড়ে তুলেছি। করোনাকালে ২ হাজার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে এই ক্লাব থেকে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। 
 
*   একই সাথে রাজনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক সংগঠনের নানা কার্যক্রমের সাথে আপনি যুক্ত। কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন? 
আমি বিশ্বাস করি, আপনি যত বেশি সংগঠক হবেন, তত বেশি অভিজ্ঞ হবেন, কাজে ভুল সিদ্ধান্ত কম নিবেন। আমার কাছে মনে হয় সংগঠন মানে অভিজ্ঞতা। সংগঠন হচ্ছে শেখার জায়গা। 

*   ব্যবসা করতে এসে কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ এ আপনি পড়েছিলেন?  
২০১০ সালে আদর্শগত কারণে আমি আমার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসি। একক উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করি। তখন আমার কোনো মূলধন ছিল না। আমার মা আমাকে তখন ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন ব্যবসা শুরু করার জন্য। সেই টাকা দিয়ে আমি নতুন ব্যবসা শুরু করেছিলাম। ২০১৩ সালে আমার মেয়ের জন্ম হয় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে। তখন আমার কাছে হাসপাতালের বিল দেওয়ার মতো টাকা ছিল না। আমার বন্ধুদের অনেকেই বড়লোক। তাদের কাছে অল্প টাকা ধার চাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এর কিছুদিন আগে আমি একটি ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। ঠিক এই ক্রাইসিস মোমেন্টে আমার ক্রেডিট কার্ড হাতে পাই। ক্রেডিট কার্ডের টাকায় আমি হাসপাতালে বিল দিয়েছি তখন। এই সময়টি আমার মনে হয় সবচেয়ে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের সময় ছিলো।

*   আপনি প্রথম ব্যবসা শুরু করেছিলেন কীভাবে?
প্রথমে থ্রি হুইলার এর ব্যবসা শুরু করি। চট্টগ্রামে পুরোনো অটো রিকশার মেয়াদহীন লাইসেন্স বাতিল করে নতুন ৫ হাজার থ্রি হুইলার এর নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। থাইল্যান্ড থেকে এসব থ্রি হুইলার আমদানি করেছি। এরপর ২০১৪ সালে শুরু করি মোটর সাইকেল এর ব্যবসা। এক সময় ব্যবসায় প্রচুর বাকি পড়ে। এখনো অনেক ক্রেতার কাছে মোটর সাইকেল বিক্রির টাকা পাই। এরপর যুক্ত হই চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে বড় কনটেইনার আমদানির কাজে। ২০১৮ সালে যুক্ত হই নগদ এর সাথে। নগদ এর মূল উদ্যোক্তা আমার বন্ধু তানভীর এ মিশুক। আমরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। আমি, মারুফুল ইসলাম ঝলক ও তানভীর এ মিশুক। বড় বড় উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার সাথে উদ্যোমের শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের প্রচেষ্টার ফলে গ্রাহকদের বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।  

এমএসএম / এমএসএম