ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

আলোচনার শীর্ষে শিরীন শারমীন চৌধুরী


সাজেদা হক       photo সাজেদা হক
প্রকাশিত: ২২-১-২০২৩ দুপুর ১১:১০

নারী নেতৃত্ব এবং নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বের বুকে অনন্য বাংলাদেশ। নারী প্রধানমন্ত্রী, নারী বিরোধীদলীয় নেত্রী, নারী স্পিকার এবং নারী সংসদ উপনেতার কারণে বার বার প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। ঘনিষ্ঠজনদের কাছে একজন নারী রাষ্ট্রপতি করার কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে হিসেবে আলোচনার শীর্ষে আছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। 

শুধু প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা প্রকাশকেই কারণ বলা ঠিক হবে না বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বিবেচনা করলেও শীর্ষেই থাকেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বর্তমান রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ নিজেও সাবেক স্পিকার। আর শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথমত নারী, দ্বিতীয়ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে স্পিকারের দায়িত্বও পালন করছেন। অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী, প্রতিশ্রুতিশীল, প্রতিভাবান এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বের সমন্বয় সত্যিই বিরল। 

তিনি নবম জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তারিখে নির্বাচিত হন। ৪৬ বছর বয়সে তিনি সর্বকনিষ্ঠ স্পিকাররূপে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এমনটা হলে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, সংসদের উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সবাই হবেন নারী। এই ভাবনাকে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলছেন ‘চমকপ্রদ’।

তবে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, দলীয় সভাপতিরও বিবেচনায় আছেন শিরীন শারমীন চৌধুরী। তিনি তাঁর মনোভাব প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলেননি। তবে এ মাসের শেষের দিকে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম জানা যাবে।নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। তবে তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর, সর্বোচ্চ সীমা উল্লেখ নেই। তবে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবশ্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে থাকেন।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে, ইসি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে এবং যাচাই-বাছাই করবে মনোনয়নপত্র। প্রার্থী একজন হলে এবং যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে ইসি। একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ভোট হবে। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে। এ বিবেচনাতেও বেশ জনপ্রিয় শিরীন শারমীন চৌধুরী।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই মেয়াদ শেষ হেেচ্ছ বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের। ২৩ এপ্রিল শেষ হচ্ছে তার কার্যকাল। অর্থাৎ আগামী নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. আবদুল হামিদ। তিনি ব্যক্তি হিসেবে দেশের ১৭তম রাষ্ট্রপতি। প্রথম মেয়াদ শেষে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল পুনরায় শপথ নিয়ে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হন তিনি। আগামী বছর ২৪ এপ্রিল শেষ হচ্ছে তার মেয়াদ। এর আগেই নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

দুই মেয়াদেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল হামিদ। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর বাংলাদেশে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আবার আবদুল হামিদই একমাত্র ব্যক্তি যিনি টানা দুই মেয়াদে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।সংবিধানের ৫০ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একাদিক্রমে হউক না হউক’ দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতি পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।’ টানা দুই মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আবদুল হামিদের আগামীতে আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে না। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসছেন নতুন কেউ।

১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ। তিনি সে বছরের ১ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরদিনই তার স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদউল্লাহ। যিনি বাংলাদেশের চতুর্থ রাষ্ট্রপতি।এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীকেও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রাখা হয়েছিল। তবে গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হন তিনি। এতে তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়েছে।

আলোচনায় রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করেছেন। আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত তিনি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা। দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ গ্রহণযোগ্য মসিউর রহমান। রাষ্ট্রপতি পদে আরেক আলোচিত ব্যক্তি একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্য।
এদিকে, পাঁচ দশকের পথ পরিক্রমায় নারীর ক্ষমতায়নে হয়েছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তারপরও বিরাজমান পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীর পথচলা এখনো সহজ নয়। আজও ঘরে-বাইরে নারী নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখী। বেড়ে চলা নির্যাতন, অবহেলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণে বাধাসহ নানা সমস্যায় নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে অতৃপ্তিও কম নয়। 
স্বাধীনতার ৫০ বছরে নারীর ক্ষমতায়ন কতটা হলো- চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এমন প্রশ্নের জবাবে তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রশ্নের জবাব এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হিসেবে দেওয়া সম্ভব না। তারা বলছেন, এখনো নারীমুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সার্বিকভাবে নারীবান্ধব সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির চিত্র নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলোই আসে সবার সামনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এ বছরের আগস্টের মাসিক পরিসংখ্যান বুলেটিনের (নভেম্বরে প্রকাশিত) তথ্য বলছে, দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সিদের স্বাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বয়সী নারীদের স্বাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ। 
অন্যদিকে সবশেষ শ্রম জরিপের তথ্য বলছে, দেশের মোট কর্মজীবী নাগরিকের প্রায় ৩৮ শতাংশ নারী। শ্রমজীবী নারীর সিংহভাগই অবশ্য তৈরি পোশাক খাতে নিয়োজিত। বড় একটি অংশ নিয়োজিত কৃষি খাতেও। এর বাইরেও সেবা খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ। চলতি বছরের মার্চের হিসাব বলছে, দেশে সচিব ও সচিব পদমর্যাদার ৭৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জন নারী, ৫১১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে নারী ৮৩ জন, ৬৩৬ জন যুগ্ম-সচিবের মধ্যে নারী ৮১ জন, ৬৯৫ উপসচিবের মধ্যে নারী ৩৪৯ জন, এক হাজার ৫৪৯ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ৪৫৪ জন এবং এক হাজার ৫২৮ জন সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ৪৭২ জন। 
স্থানীয় প্রশাসনে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক পদে রয়েছেন ১০ নারী। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নারী ১৫ হাজার ১৬৩ জন- যা মোট সদস্যের ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। বর্তমানে দু’জন ডিআইজি, দু’জন অ্যাডিশনাল ডিআইজি, ৭১ জন পুলিশ সুপার, ১০৯ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১০০ জন সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন। কাক্সিক্ষত মাত্রায় না হলেও বিভিন্ন খাতে অংশগ্রহণে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন বেড়েছে। 
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে অনেক অগ্রগতি যেমন আছে তেমনি অতৃপ্তিও আছে। নারীর ক্ষমতায়ন যথেষ্ট হলেও এ নিয়ে আরো কাজ করতে হবে। ক্ষমতায়নের প্রশ্নে এবং শ্রমবাজারে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, যেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। স্বাধীনতার পর যেখানে ছয় শতাংশের কম নারী শ্রমবাজারে ছিলেন, এখন সেটি ৩৫ শতাংশের বেশি। শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে ছেলেমেয়ের মধ্যে পার্থক্য দূর হওয়ায় শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক দিকে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এতে নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও বদল এসেছে। 
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নে দেশের শীষস্থানীয় রাজনৈতিক পদগুলোতে নারীদের আসীন হওয়ার বিষয়টিও সামনে চলে আসে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার- অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদেই আসীন নারী। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারীমন্ত্রী চারজন। ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে একজন নারী, দু’জন প্রতিমন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে এখনো সংরক্ষিত আসনগুলোতে নারীরা এখনো ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে মনোনীত হন। যে রীতি চলে আসছে ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনের সময় থেকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বাধ্যতামূলক ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের দাবি জানিয়ে এলেও তারা সেটি পূরণ করছেন না। এর ফলে উচ্চ পদে নারীরা আসীন থাকলেও রাজনীতির সব স্তরে সেভাবে নারীর উপস্থিতি নেই। নারী নির্যাতনের চিত্র হতাশাব্যঞ্জক পাঁচ দশক আগের চিত্র দেখলে নারীর ঘর থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়াকে ইতিবাচক মনে হলেও এর বিপরীতে নারী নির্যাতনের চিত্র হতাশাব্যঞ্জক। 
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জরিপের তথ্য বলছে, বাল্যবিয়ে, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে বাধা, পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে বাধাসহ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে নারী। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকেই এর পেছনে প্রধানতম কারণ হিসেবে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
সবকিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনায় কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি? নির্ধারিত সময়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর সংবিধান সংশোধনের কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই। সে জন্য অভিজ্ঞ ও দলমতের ঊর্ধ্বে জনপ্রিয় এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি আবদুল হামিদ আর পদে থাকতে পারছেন না। নতুন মুখই আসছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে- এটা নিশ্চিত। কোন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি এবার বঙ্গভবনে আসীন হচ্ছেন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে এ বিষয়টি। যেহেতু বর্তমান সংসদে বিএনপি নেই, আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, এমপিদের দলের বাইরে ভোট  দেয়ার বিধান নেই, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের মনোনীত প্রার্থীই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। 
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একাধিক উপাচার্যের নাম এ পদে আলোচনায় আছে। রাষ্ট্রপতির চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধান আছে সংবিধানে। 
সে অনুযায়ী দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি পদের  মেয়াদ অবসানের কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আইনজ্ঞদের মতে, প্রথম ৩০ দিনকে বোঝাবে। নির্বাচন কমিশনও তা-ই মনে করে। সে অনুযায়ী আগামী মাসেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু ও শেষ করতে হবে।
সংসদে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী স্পিকারদের মধ্যে শিরীন শারমিন চৌধুরী ১২তম। আর নারীদের মধ্যে স্পিকার হিসেবে তিনিই প্রথম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, যেহেতু সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে চারজন রাষ্ট্রপতি সাবেক স্পিকার। তাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।  আর রাষ্ট্রপতি হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম কোনো নারী রাষ্ট্রপতি। 

 

এমএসএম / এমএসএম