ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ বাড়ছে


অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া photo অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ২৪-১-২০২৩ রাত ৮:৪০

জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭০ কোটি ৪৪ লক্ষ ডলার। ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিন ৫২ শতাংশ। চলতি বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স বাড়তে আছে যা খুবই ইতিবাচক। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবে সুনাম, সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা দিনকে দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রসার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। বিনিয়োগবান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনা সরকারের নানামুখী উদ্যোগে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিগনিত। বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব অর্জন অচিরেই উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সঠিক নেতৃত্বে আর কখনো পথ হারাবেনা বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে যে মর্যাদার আসনে পোঁছেছে, তা ধরে রেখে আরও এগিয়ে যাচ্ছে দুর্দান্ত গতিতে। নানাবিধ উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি উন্নয়ন, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ, পোশাক শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্জন। সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের পরিমান বৃদ্ধির কারনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এবং এভাবে চলতে থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ১৯৩টি দেশের মধ্যে ২৫ নম্বর অর্থনৈতিক দেশ হবে। বাংলাদেশের জিডিপি এখন ৪০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যা ২০৩৫ সাল নাগাদ ১ হাজার দুইশত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। উন্নত বিশ্বের কাছে এরকম বিস্ময়কর বা নাটকীয় উত্থানের মূলে রয়েছে বিনিয়োগবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।  আজ ৯৯.৯৯ ভাগ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, রাস্তা ঘাট, পুল ব্রিজ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, স্বাক্ষরতার হারও আমরা প্রায় ৭৪ শতাংশে আমরা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। মানুষের আয়ুষ্কালও ৭৩ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ মার্কিন ডলার। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা আগামী ২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে ১২৫০০ ডলার এবং দারিদ্র্যর হার শূন্যের কোঠায়। সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলমান। বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বানিজ্য সম্ভাবনা দিন দিন অগ্রসমান। এ জন্য বাংলাদেশকে এখন বলা হচ্ছে “রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার”।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এখন সারা বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে। পরবর্তী ধাপ উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার জন্য বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ দরকার। সেজন্য বিদেশী বিনিয়োগ ও ক্যপিটাল মার্কেট ফোকাস করা হচ্ছে। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন আকর্ষনীয় ও লাভজনক স্থান। ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে খুব সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে স্থান করে নেয়া যাবে। ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি সেখানে নানা রকম বিনিয়োগ বান্ধব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে সরকার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিকাশ, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, সহজে শ্রমিকের প্রাপ্যতা, চাহিদার চেয়েও বেশি বিদ্যুতের উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সহ নানা কারনে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য চমৎকার স্থান। বিশ্বের অনেক দেশ এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। কানাডা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, নরওয়ে, আমেরিকা, স্পেন, সিঙ্গাপুর, কসোভো, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ নানা সেক্টরে আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এরমধ্যে সৌদি আরব কক্সবাজারে পর্যটন খাতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সাথে তারা ঢাকা-পায়রা রেললাইনেও বিনিয়োগ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আস্থা রেখে স্পেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, জনশক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহ অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। নরওয়ে মনে করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা খুবই আকর্ষনীয়। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে আয়কর অব্যাহতি, শুল্কমুক্ত আমদানি, জমি উন্নয়ন কর অব্যাহতি, বিদেশিদের জন্য সহজ ব্যাংকিং সুবিধা সহ নানারকম প্যাকেজ যা বিদেশিদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ। কসোভোর রাষ্ট্রদূত বলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান এবং কসোভোর বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, আইসিটিসহ নানা খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। যারা বিদেশে রেস্তোরাঁ ব্যবসা করেন তাদের এ দেশ থেকে নানারকম খাদ্যপণ্য নিয়ে যেতে হয় এবং এই কাজটি সহজীকরণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন “আমরা নতুন বিমান কিনে দিয়েছি। আমরা আগামীতে কার্গো বিমানও কিনে দেব।ৃ কোন সবজিটা, কোন মাংসটা কত তাপমাত্রায় রাখলে তার খাদ্যগুণ নষ্ট হবে না- সেইভাবে চেম্বার করে দিয়ে সেইভাবে আমরা কার্গো ভিলেজ করে দেব। আপনার কোনো জিনিস রপ্তানি করতে আর সমস্যা হবে না।” এভাবে নানারকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি উত্তম স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে যার সুফল বাংলাদেশ ভোগ করছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে পূর্নমাত্রায় বিনিয়োগ হয়ে গেলে বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যাবে সৃষ্টি হবে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান এবং উন্নত হবে জীবনযাত্রার মান। 
টেকসই উন্নয়ন,অভীষ্ট, লক্ষ্যমাত্রা ও উর্ধগতি সূচকের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে এখন একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। করোনাকালীন সময়েও ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি দেশকে অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। বর্তমান সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ধরে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে যার সুফল জনগন প্রতিনিয়ত পাচ্ছে। সবুজ-শ্যামল উর্বর এ দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ দেশের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি নানা সূচকে উন্নয়ন সাধিত করবে। মানুষের জীবনযাত্রার মানের আমূল পরিবর্তন ঘটার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল কর্মসংস্থানের। অনূর্বর পতিত জমি ভরাট করে গড়ে তোলা এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নত দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিবে। এছাড়াও পর্যটন সেক্টরের উন্নয়নের জন্য সরকার ৩ টি এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোন তৈরি করছে যেখানে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর সহ নানা দেশ। এতে করে পর্যটনের উন্নয়নের পাশাপাশি সৃষ্টি হবে বিপুল পরিমান কর্মসংস্থানের। বিনিয়োগবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন “অর্থনৈতিক অঞ্চলে যারা বিনিযোগ করতে চান, তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী যারা, তাদের জন্য আরো আলাদাভাবে বিশেষ সুবিধা আমরা দেব, যাতে সেখানে বিনিয়োগটা আরো ভালোভাবে হয়।” এভাবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সর্বোচ্চ সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যাতে কষ্ট করতে না হয় সে জন্য একটি সুখী, সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং অর্থনৈতিক ভাবে মজবুত আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলছেন বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমএসএম / এমএসএম

বিদ্যা, জ্ঞান ও শুভ্রতার বিশুদ্ধ প্রতীক দেবী সরস্বতী

রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ বাড়ছে

পিতার জন্য নিষ্পাপ মেয়ের আবদার ফেলতে পারিনি

পরিবেশ বান্ধব সবুজ বাহন বাইসাইকেল চালনায় উৎসাহ দেওয়া হোক

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ

“গণঅবস্থান কর্মসূচি গণমানুষের আশার প্রদীপ জ্বালাতে ব্যর্থ”

রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের

সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচার হবে কবে?

বাংলাদেশ- যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক

মিয়ানমারের ধন্যবাদ ও বাংলাদেশের প্রত্যাশা

ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি : স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়

স্মার্ট মেশিনের নতুন যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ