ঢাকা রবিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২

পরীমণির মা হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ তসলিমা নাসরিন?


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩-১-২০২২ দুপুর ১:৭

গত বছরের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার ঘটনায় বেশ সক্রিয় ছিলেন ওপার বাংলায় বসবাসকারী নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এরপর পরীমণি যখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে তখনও তার পক্ষে কলম ধরেছিলেন এই লেখিকা। জোর আওয়াজ তুলেছিলেন নায়িকার পক্ষে।

তবে এবার যেন পরীর বিপক্ষেই কথা বললেন তসলিমা। ‘পরীমণি মা হচ্ছেন’-এই খবরটা যে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। পরীমণি গর্ভধারণ করেছেন, তারও আগে চুপিসারে নায়ক শরীফুল রাজকে বিয়ে করেছেন এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর কলম ধরেন তসলিমা। সেখানে তার লেখায় স্পষ্ট তিনি জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকার মা হওয়ার সংবাদটি ভালোভাবে নিতে পারেননি। বরং এই খবরে পরীর জন্য ক্ষোভ ঝরেছে তসলিমার কণ্ঠে। যদিও লেখার কোথাও তিনি পরীমণির নাম নেননি।

তসলিমা লেখেন, ‘সন্তান জন্ম দেওয়ার এত দরকার কেন? মেয়েরা, এমনকী প্রতিষ্ঠিত, সমাজের নানা নিয়ম ভেঙে ফেলা সাহসী মেয়েরাও, ৩০ পার হলেই সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতা কতটা নিজের জন্য, কতটা পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতি মানার জন্য? আমি কিন্তু মনে করি নিজের জন্য নয়, মেয়েরা সন্তান জন্ম দিতে চায় সমাজের ১০টা লোকের জন্য। বাল্যকাল থেকে শুনে আসা, শিখে আসা 'মাতৃত্বেই নারীজন্মের সার্থকতা' জাতীয় বাকোয়াজ  মস্তিস্কে কিলবিল করে বলেই মনে করে ইচ্ছেটা বুঝি নিজের।’

তসলিমার ভাষ্যে, ‘সন্তান জন্ম দেওয়ার ইচ্ছে মানুষের ভেতর আপনাতেই জন্ম নেয় না, জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিকভাবে সম্পন্ন হয়ে যায় না। মানুষ ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, লাগাম টেনে ধরতে পারে গর্ভধারণের যাবতীয় বিষয়াদির। এখানেই  পশুর সঙ্গে মানুষের পার্থক্য।  মানুষ ভাবতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সন্তান জন্ম দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।’

তিনি লেখেন, ‘যারা মূল্যবান কাজ করছে জীবনে, আমার মনে হয় না তাদের উচিত  অহেতুক শিশু জন্ম দিয়ে কাজের সময় নষ্ট করা। লালন-পালনেই তো ব্যয় হয়ে যায় জীবনের অনেকটা সময়। নিজেকে যারা ভালোবাসে না, তারাই হয়তো জীবনকে মূল্যহীন করতে দ্বিধা করে না। আর যারা মনে করে বৃদ্ধ বয়সে তাদের দেখভাল করবে সন্তানেরা, তাই সন্তান জন্ম দেওয়া জরুরি, তারা নিতান্তই দুষ্টবুদ্ধির লোক, সন্তানের ঘাড়ে চড়ার বদ উদ্দেশ্য নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করে।’

তসলিমার মতে, ‘আর এমন তো নয় যে এই গ্রহে মানুষ নামক প্রাণীর এত অভাব যে অচিরে  বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই প্রজাতি; বিলুপ্ত হওয়া থেকে প্রজাতিটিকে যে করেই হোক বাঁচাতে হবে! বাঁচানোর দায়ই বা কেন আমাদের নিতে হবে!’

এই নারীবাদী লেখিকার মতে, ‘পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি। এত ভিড়ের পৃথিবীতে  আপাতত কোনও নতুন জন্ম কাংক্ষিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মেয়েরা যদি ভেবে নেয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনও অর্থ নেই, তাহলে তারা যে  ভুল তা তাদের বোঝাবে কে! সন্তানের  জন্ম তারা দিতেই পারে যদি এমনই তীব্র তাদের আকাংক্ষা, তারপরও এ কথা ঠিক নয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনও অর্থ নেই। কোনও কোনও মানুষ তাদের জীবনকে  শখ করে অর্থহীন করে। তাছাড়া কারও জীবনই অর্থহীন নয়। বরং যে ভ্রুণ আজও জন্মায়নি, সে ভ্রুণ অর্থহীন।’

তসলিমা সবশেষ লেখেন, ‘পৃথিবীর প্রচুর শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়ে বিয়ে করেনি, সন্তান  জন্মও দেয়নি।’

শাফিন / শাফিন