সাতক্ষীরায় ৪ টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহ

news paper

এস কে কামরুল হাসান, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ২০-১১-২০২৩ দুপুর ৪:৫৩

143Views

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরার  ৪ টি  সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি এখন রাজধানী ঢাকার দিকে। টেলিভিশনের পর্দায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চোখ রাখছেন। কান পেতে রয়েছেন সুসংবাদ শোনার অপেক্ষায়। মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে রাখছেন নিয়মিত খবর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে কিনছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম। কার কপালে জুটবে মনোনয়ন। কে ধরবেন নৌকার হাল। এমন সব প্রশ্ন ভর করেছে নেতা-কর্মীদের মনে। এনিয়ে দিনভর চলছে আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস, আদালত, হোটেল, রেস্তরাঁ সর্বত্র চলছে ভোটের আলোচনা। এছাড়া কোন কোন দল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সে আলোচনাও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর উৎসব মুখর পরিবেশে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার পর সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের মনোয়ন প্রত্যাশীরা শনিবার ও রবিবার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দলবেঁধে রাজধানী ঢাকায় গিয়েছেন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহপূর্বক জমা দিতে। সেখানে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। মনোনয়ন উৎসবে মেতে উঠেছেন নেতা-কর্মীরা। গত দুদিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন জেলার শীর্ষ নেতারা। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলেছেন, ফরম সংগ্রহ করলেও দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্যই এক হয়ে কাজ করবেন তারা।

এদিকে দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আগ্রহী প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি। রবিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক নিয়ে আগ্রহী প্রার্থীরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এসে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। অনেকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধিরা ফরম সংগ্রহ করছেন। গত শনিবার (১৮ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর এ কার্যক্রম শুরু হয়।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ঘিরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা, জিরো পয়েন্ট, সচিবালয় এলাকাজুড়ে উপচেপড়া ভিড় বিরাজ করছে। নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে রয়েছেন জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এ সময় তাদের সমর্থিত প্রার্থীর ছবি, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার ছবি, নৌকার প্রতিকৃতি নিয়ে একের পর এক মিছিল সহকারে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশ এলাকায় সমবেত হচ্ছেন তারা। কোনো কোনো মিছিলে ব্যান্ড পার্টি, ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসব করতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের। নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসা প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবনে ঢুকতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রচ- ভিড় ঠেলে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। ফরম সংগ্রহ ও জমা কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে রবিবার রাত ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন অনেকেই। যারা এখনও সংগ্রহ করেননি তারা আজ-কালের মধ্যে সংগ্রহ করবেন।
রবিবার রাতে দলের একটি সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা ১ (তালা-কলারোয়া) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদ স ম আলাউদ্দীন তনয়া লায়লা পাভীন সেঁজুতি, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ সাহিদ উদ্দিন, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এড. মোহাম্মদ হোসেন।


সাতক্ষীরা ২ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মীর মোশতাক আহম্মেদ রবি, যুগ্ম-সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আ হ ম তারেক উদ্দীন ও সাবেক সচিব শাফী আহম্মেদ।

সাতক্ষীরা ৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা: রুহুল হক, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম, ইউসুফ আব্দুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ এজাজ আহম্মেদ স্বপন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয় ফরম সংগ্রহ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জগলুল হায়দার, সাধারণ সম্পাদক এসএম আতাউল হক দোলন, আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর রহমান, শফিউল আযম লেলিন, মাসুদা খানম মেধা ও আনিছুর রহমান আনিছ।

সাতক্ষীরা-২ আসনে ফরম সংগ্রহ করেছেন নজরুল ইসলাম আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের লক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম। রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের খুলনা বিভাগীয় বুথ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন এসময় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য: নজরুল ইসলাম ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেন। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত বিরোধী মুভমেন্টে তার ভূমিকা দলকে করেছে সুসংগঠিত। ১৯৯৫ সালে ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততার প্রতিক হিসেবে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল¬ুর রহমানের হাত থেকে গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি পদক। এছাড়া তিনি কাজী নজরুল স্বর্ণ পদক’ কবি জসিম উদ্দীন পদক’ মাদার তেরেসা পদকসহ অসংখ্য পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন।প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করতেন, পরে ব্যবসা। ১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের কমনরুম সম্পাদক ছিলেন। বাবার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতে খড়ি। ১৯৮৪ সালে ছিলেন আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ট্রেজারার। ১৯৯৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সাতক্ষীরা সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৯৭ সালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে নির্বাচিত হন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৫ সালেও পুনরায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। সর্বশেষ ২০২২ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরা-৪ আসনে নৌকার মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাবলু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে নৌকার মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাবলুর রহমান। রোববার তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

বাবলুর রহমান ২০০২ সালে শ্যামনগর মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিরোধী দল ও ১/১১ তে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় ঢাকা কলেজে প্রথম তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ১২-১৫ জনের একটি ঝটিকা মিছিলেও তার অংশগ্রহণ ছিলো। ছগির আহমেদ ও আরিফুজ্জামান মিয়া টুটুল কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন।

১৩ জুলাই ২০১১ সালে বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন, ২০১৫ সালে ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুনুর রশিদ নেতৃত্বাধীন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানে শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হাসান খান নিখিল ঘোষিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ইতোমধ্যে বাবলুর রহমান তরুণ সমাজের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেছের। তিনি মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হলে র্নির্বাচনী এলাকার প্রত্যান্ত অঞ্চলের প্রান্তিক অসহায় মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকার মানুষের পানির অভাব মুক্ত করা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ এর সকল সেবা একেবারে সকল মানুষের দৌড় গোড়ায় পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন।


আরও পড়ুন